প্রসঙ্গিক কথা---

image-not-found

সকল সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে মানুষকেই জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা দান করেছেন। এর মাধ্যমে মানুষ যেমন তার পার্থিব প্রয়োজন পূরণের উত্তম পন্থা আবিষ্কার করতে পারে তেমনি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি এবং আখিরাতের সফলতা-ব্যর্থতার জ্ঞানও ধারণ করতে পারে।

ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। হেরা গুহায় নবী (সা.) এর উপর সর্বপ্রথম যে ওহী নাযিল হয় তা হচ্ছে,
“পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক-১)

প্রত্যেক মুসলমানের উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। বর্তমান দুনিয়ায় দু'ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। প্রথমত জাগতিক শিক্ষা বা জেনারেল শিক্ষা এবং অন্যটি ধর্মীয় শিক্ষা বা ইসলামিক শিক্ষা। দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলার বিধিবিধান পালন করার জন্যে এবং আখিরাতে মুক্তি পেতে যেমনি ধর্মীয় শিক্ষা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। তেমনি দুনিয়াতে মুসলিম জাতিকে সঠিক মুসলমান হিসেবে চলার জন্য আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অর্থাৎ জেনারেল শিক্ষা গ্রহণেরও বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাধারণত একমুখি। তাই জেনারেল শিক্ষা নিতে গেলে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। আবার ধর্মীয় শিক্ষা নিতে গেলে জেনারেল শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

আদর্শ জাতি গঠনের জন্য এবং সন্তানকে চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত করতে বহুমুখি শিক্ষার বিকল্প নেই। এখন ঘরে ঘরে শিক্ষিত মানুষ পাওয়া যায় কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা পাওয়া যায় না। সন্তানকে নামিদামি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিয়েও মানুষের মতো মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে না। শেষ বয়সে বাবা-মাকে থাকতে হয়। বৃদ্ধাশ্রমে। এর পেছনে মূল কারণ সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষার অভাব। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে। কোমলমতি শিশুদের জেনারেল ও ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মকে চরিত্রবান, তাকওয়াবান ও আদর্শ মানুষ রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুদক্ষ পরিচালক ও শিক্ষক দ্বারা সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে বহুমুখি শিক্ষার সর্বাধুনিক সিলেবাসের সমন্বয়ে গঠিত আল-আজহার
ইসলামিক একাডেমি।

সভাপতির বাণী

image-not-found

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষকে নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রতিভা ও মেধা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই প্রতিভা ও মেধার বিকাশ ঘটাতে হয়। জন্ম নিলেই মানুষ মানুষ হয় না, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্ব দিয়ে তাকে মানুষ বানাতে হয়। পিতামাতা হলো সন্তানদের জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম অধ্যাপক এবং পরিবারই হল সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল মেধা ও প্রতিভা বিকাশের অন্যতম স্থান। সেই বিকাশের অন্যতম কারিগর হল শিক্ষক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, জ্ঞান বিজ্ঞান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার কল্যাণেই মনুষ্যত্ব ও মেধার সম্প্রসারণ ঘটে। আর মেধার সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলেই জাগরণ ঘটে একটি জাতির। একটি দেশকে উন্নতির শিখরে পৌছাতে হলে জাতিকে গড়ে তুলতে হবে শিক্ষিত করে। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন ঘটেছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। বর্তমান সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ফলে প্রযুক্তি আজ আকাশছোঁয়া। একবিংশ শতাব্দীর বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধতা গড়ে তোলা। এরই আলোকে বর্তমান প্রজন্মকে খোদাভিরু, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আল-আজহার ইসলামিক একাডেমি পরিবার বদ্ধপরিকর।

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ---

image-not-found

সম্পূর্ণ শারিরীক ও মানসিক শাস্তিমুক্ত শিশু বান্ধব আনন্দঘন পরিবেশে, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী কোমলমতি শিশুদেরকে জেনারেল ও ইসলামিক শিক্ষায় সু-শিক্ষিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি কুরআনের হাফেজ ও আলেম তৈরি করা। আমরা চাই একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, জর্জ, ব্যারিস্টার, এমপি, মন্ত্রি, সচিব হওয়ার পাশাপাশি যেন ধর্মীয় বিষয়ে পান্ডিত্য লাভ করে এবং সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। এজন্য একজন শিক্ষার্থী আমাদের প্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণি বা পি.ডি.সি পাসের পাশাপাশি কুরআনের হাফেজ হবে। ইংরেজি ও আরবি স্পোর্কিং এ হবে দক্ষ। পর্যায়ক্রমে এখানে শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণি বা জে.ডি.সি পাসের পাশাপাশি পূর্ণ কুরআন, হাদিস ও মাসআলার ক্ষেত্রে দক্ষ হবে এবং দ্বাদশ বা আলিম পাশের পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিস শেষ করবে, ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও এখানে একজন শিক্ষার্থী আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার উপযোগী হয়ে গড়ে উঠবে। আর দেশেরে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেলে পড়ার সুযোগতো খোলা থাকছেই ।